কুইকপোস্ট | ওয়াশিংটন

জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত মামলার নথিতে অতিরিক্ত রেডাকশন (কেটে দেওয়া অংশ) নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ)-এর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তুলেছেন হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির র‍্যাংকিং মেম্বার জেমি রাস্কিন। তার দাবি, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হচ্ছে।

রাস্কিন বলেন,

“এগুলো সাধারণ গোপনীয়তা রক্ষার রেডাকশন নয়। এখানে একটি প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে, যা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় আড়াল করছে। জনগণ সত্য জানার অধিকার রাখে।”

কী রয়েছে বিতর্কিত নথিতে?

এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন পাচার ও নাবালিকা শোষণের মামলাকে ঘিরে একাধিক নথি সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে প্রকাশিত হয়। তবে প্রকাশিত নথির বড় অংশেই নাম ও তথ্য কালো দাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

এপস্টেইনের ২০০৮ সালের বিতর্কিত প্লি ডিল এবং পরবর্তী তদন্ত নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। তার ব্যক্তিগত বিমান ভ্রমণ তালিকা (“Lolita Express”) ও যোগাযোগ তালিকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম অতীতে প্রকাশ পেলেও সমালোচকদের দাবি—পুরো চিত্র এখনো সামনে আসেনি।

রাস্কিন কংগ্রেসের নজরদারি ক্ষমতার আওতায় কিছু অনরেড্যাকটেড নথি পর্যালোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন, তবে নির্দিষ্ট কোনো নাম প্রকাশ করেননি।


ডিওজের অবস্থান

ডিওজে এক বিবৃতিতে জানায়, নথির কেটে দেওয়া অংশগুলো—

  • ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষা
  • চলমান তদন্তের স্বার্থ
  • জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায়

রাখা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সব পদক্ষেপ ফেডারেল আইন ও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।


রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকানরা অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, স্বচ্ছতা ছাড়া জনআস্থা ফিরবে না।

হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডান আগামী সপ্তাহে শুনানির ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে রাস্কিনের বক্তব্য গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এপস্টেইন কেলেঙ্কারি বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, ব্যবসা ও অভিজাত মহলের সঙ্গে জড়িত অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

প্রশ্ন এখন একটাই—

পুরো সত্য কি সামনে আসবে, নাকি রেডাকশনের কালো দাগই ইতিহাস হয়ে থাকবে?