কুইকপোস্ট | ঢাকা
চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ইউএভি (ড্রোন) উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে এবং এতে অন্য দেশ কী ভাবছে, তা বিবেচ্য নয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ যদি অন্য কোনো দেশের সহায়তায় একটি কারখানা স্থাপন করে, সেটি আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং দেশের স্বার্থেই নেওয়া। এতে কে কী ভাবছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।” তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, “ভারত বা পাকিস্তানে কী হচ্ছে, সে বিষয়ে কি আমাদের মতামতের কোনো গুরুত্ব থাকে?”
চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
তৌহিদ হোসেন জানান, চীন-এর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন নয়। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ড্রোন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি মূলত প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারণের আওতাভুক্ত নয়।
মঙ্গলবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ সরকার ও চীনের মধ্যে একটি সরকার-টু-সরকার (G2G) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং China Electronics Technology Group Corporation (CETC) যৌথভাবে দেশে একটি আধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন করবে।
প্রকল্পের লক্ষ্য ও সক্ষমতা
আইএসপিআরের তথ্যমতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো হবে। দীর্ঘমেয়াদে ড্রোন উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা অর্জনই এর মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মিডিয়াম অল্টিটিউড লো এন্ডিউরেন্স (MALE) এবং ভিটিওএল (VTOL) ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। এসব ড্রোন সামরিক ব্যবহারের পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও ব্যবহার করা হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য প্রসঙ্গ
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব এবং সে অনুযায়ীই কাজ করব।”
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বুধবার বলেন, বাংলাদেশ যদি চীনের সঙ্গে এই ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় এগোয়, তাহলে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্র তুলে ধরবে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ভিত্তিহীন” বলে উল্লেখ করে। দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশ–চীন সহযোগিতা দুই দেশের পারস্পরিক সিদ্ধান্ত, এতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে মন্তব্যে অনীহা
ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য নির্বাচনী অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে—এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তৌহিদ হোসেন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “জল্পনা-কল্পনায় কিছু অর্জন হয় না। নির্বাচনে কে জিতবে, সেটাই মুখ্য। নির্বাচিত সরকারই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দেখবে।”
চীনের সহায়তায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার—জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার, আর সেই সিদ্ধান্তে বাইরের মতামত বা চাপের প্রভাব থাকবে না।





