কুইকপোস্ট | বাংলাদেশ অর্থনীতি
জানুয়ারিতে এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার
প্রবাসী আয়ের জোয়ারে নতুন গতি পেয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। জানুয়ারি ২০২৬-এ দেশে এসেছে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক প্রাপ্তি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।
রেকর্ডের কাছাকাছি প্রবাহ
এই অঙ্কটি এসেছে ডিসেম্বর ২০২৫-এর সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার প্রাপ্তির ঠিক পরেই। অর্থবছর ২০২৫–২৬ শুরুর পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম ২৬ দিনেই এসেছে ২.৭১ বিলিয়ন ডলার। দৈনিক গড় ছিল ১০৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি—যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি। মাস শেষে রেমিট্যান্স দাঁড়ায় ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই মোট রেমিট্যান্স ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব
এই বিপুল অর্থপ্রবাহ সরাসরি সহায়তা করছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে। International Monetary Fund (আইএমএফ)-এর হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটি আমদানি ব্যয় সামাল দিতে ও টাকার ওপর চাপ কমাতে সহায়ক।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের জিডিপির ৬–৭ শতাংশ আসে রেমিট্যান্স থেকে। সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পুনর্গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়ে এই অর্থ বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বেশি বিনিময় হার ও প্রণোদনার কারণে হুন্ডির ব্যবহার কমা—প্রবাহ বাড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
কোন দেশ থেকে কতটা
- মধ্যপ্রাচ্য (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত): মোট রেমিট্যান্সের ৫০ শতাংশের বেশি। তেল ও নির্মাণ খাতে কর্মরতদের অবদান প্রধান।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ: প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ কর্মীদের কারণে অংশ বাড়ছে।
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর): গার্মেন্টস ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকদের নিয়মিত অবদান।
সামনে কী?
ফেব্রুয়ারির প্রাথমিক প্রবণতাও ইতিবাচক। নীতিনির্ধারকদের আশা, পুরো অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩২ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা—যুক্তরাষ্ট্র–চীন উত্তেজনা বা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি প্রবাসী শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ওয়ালেট, সহজ ব্যাংকিং সেবা, এবং রেমিট্যান্স চ্যানেল সংস্কারে জোর দিচ্ছে—যাতে এই অর্থপ্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই থাকে।





