কুইকপোস্ট | যুক্তরাষ্ট্র
Meta, YouTube ও TikTok-এর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ইস্যুতে সরাসরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে যাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। Meta, YouTube এবং TikTok-এর বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল ট্রায়াল শুরু হতে যাচ্ছে। অভিযোগ—এই প্ল্যাটফর্মগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ডিজাইন ও অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছে, যা শিশুদের আসক্ত করে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
আগামী মাসে সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল কোর্টে শুরু হতে যাওয়া এই মামলাটি দায়ের করেছেন অভিভাবকরা, শিশু অধিকার সংগঠন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি অঙ্গরাজ্য। মামলায় বলা হয়েছে, ইনফিনিট স্ক্রল, অটোপ্লে এবং ডোপামিন-নির্ভর অ্যালগরিদমব্যবহার করে শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে আটকে রাখা হচ্ছে। এর ফল হিসেবে বাড়ছে উদ্বেগ, হতাশা, ঘুমের সমস্যা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা।
কী অভিযোগ আনা হয়েছে
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়—
- Meta জানত যে তাদের প্ল্যাটফর্ম কিশোরদের ক্ষতি করছে, তবুও ব্যবহারকারী ও মুনাফা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে
- YouTube-এর অটোপ্লে সিস্টেম শিশুদের এক ভিডিও থেকে আরেক ভিডিওতে টেনে নেয়
- TikTok-এর “For You” ফিড অতিমাত্রায় ব্যক্তিগতকৃত কনটেন্ট দেখিয়ে আসক্তি তৈরি করে
বাদীপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ ইমেইল, মেমো এবং হুইসেলব্লোয়ারদের সাক্ষ্য প্রমাণ করে—নিরাপত্তার চেয়ে আসক্তিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
বিগ টেকের জবাব
অভিযোগ অস্বীকার করে Meta জানিয়েছে, তাদের শক্তিশালী প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ও বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। YouTube বলছে, তারা সুপারভাইজড অ্যাকাউন্ট চালু করেছে। TikTok-এর দাবি, তাদের প্ল্যাটফর্ম “সৃজনশীলতা ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা” দেয়।
তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিশোরদের দৈনিক গড় স্ক্রিন টাইম সাত ঘণ্টার বেশি। ২০২০ সালের পর থেকে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিচার প্রক্রিয়া অনেকটা ১৯৯০-এর দশকের বিগ টোব্যাকো মামলার মতো। যদি কোম্পানিগুলো দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে—
- বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ
- প্ল্যাটফর্ম ডিজাইনে বাধ্যতামূলক পরিবর্তন
- শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর ফেডারেল আইন
সবই বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে উঠতে পারে।
ফেডারেল বিচারক Elena Ramirez ইতোমধ্যে মামলা খারিজের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। তার মন্তব্য, “এই অ্যালগরিদমগুলো নতুন যুগের সিগারেট কি না, তা জুরি ঠিক করবে।”
এই মামলার দিকে তাকিয়ে আছে লাখো পরিবার। তাদের অভিযোগ—সন্তানরা ধীরে ধীরে ‘স্ক্রল জোম্বি’তে পরিণত হচ্ছে। প্রশ্ন একটাই—এবার কি সত্যিই জবাবদিহির মুখে পড়বে বিগ টেক?





