কুইকপোস্ট | দাভোস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংগঠন “Board of Peace” (শান্তি পর্ষদ) ঘোষণা করেছেন, যার উদ্দেশ্য বিশ্বব্যাপী সংঘাত সমাধান এবং পুনর্গঠনকে এগিয়ে নেয়া। এই সংগঠনটি ২০০৫ সালের মতো জাতিসংঘের বাইরেও কাজ করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে এবং তা নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। 

Board of Peace: কী ঘোষণা করা হয়েছে?

ট্রাম্প এই সংগঠনটি প্রথমে গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা হিসেবে তুলে আনেন। পরবর্তীতে এটিকে আরও বড়, আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের আসন্ন চেয়ারম্যান এবং বোর্ডের কার্যক্রমে অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। 

প্রস্তাবিত সংস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—

  • সক্রিয় সদস্যপদ পাচ্ছে সেই দেশগুলো যারা আমন্ত্রণ গ্রহণ করে
  • স্থায়ী সদস্যপদ পেতে দেশগুলোকে ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে
  • সংগঠন বিশ্বের সংঘাত মোকাবিলা ও শান্তি স্থাপন প্রচেষ্টায় কাজ করবে
  • গাজা ছাড়াও অন্যান্য বিরোধ মোকাবিলায় এটিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে  

কে আছে এবং কারা বেঁকে বসেছে?

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে প্রায় ৩৫টি দেশ বোর্ডে যোগ দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ। এই উদ্যোগে পেরু, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইজিপ্ট, ইন্দোনেশিয়া, আর মরক্কোসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই অংশ নিচ্ছে। 

কিন্তু ইউরোপের বেশ কিছু দেশ এই উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা এই সংস্থায় স্বাক্ষর করবে না, কারণ এতে কিছু ভূরাজনৈতিক নেতাকে আনন্দিত করে তোলা হয়েছে যারা শান্তিপূর্ণ প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নন। 

আরেকটি দেশ সলভেনিয়া জানিয়েছে এটি বোর্ডে যোগ দেবে না, কারণ এটি আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাঠামোকে ক্ষুন্ন করতে পারে। 

বোর্ডের লক্ষ্য এবং জনস্বাস্থ্য

বোর্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো গাজা যুদ্ধের পর পুনর্গঠন—বিশেষত গাজা স্ট্রিপকে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন কেন্দ্রে পরিণত করা। ট্রাম্প এবং সহযোগী সদস্যেরা মনে করেন, এই উদ্যোগটি গাজা থেকে শুরু করে বিশ্বে অন্যান্য সংকটপূর্ণ অঞ্চলেও কাজ করতে পারে। 

তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে এই বোর্ড জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কারণ এর কাঠামোয় নীতিনির্ধারণ ও শক্তির ভারসাম্য নতুন করে তৈরি হচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ বোর্ডে যোগ দিতে আগ্রহ দেখালেও কিছু শক্তি এটিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেছে। 

এছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্টও বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণ বিবেচনা করছে, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সিদ্ধান্ত জানাননি। 

ডাটা সোর্স

  • Reuters: রিপোর্টে বলা হয়েছে ট্রাম্প “Board of Peace” ঘোষণা করেছেন এবং প্রায় ৩৫ দেশ যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  
  • The Guardian: যুক্তরাজ্য জানায় তারা এই বোর্ডে যোগ দেবে না, কারণ সেখানে কিছু নেতার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।  
  • Reuters: রাশিয়া বোর্ডে যোগদানের প্রস্তাব বিবেচনা করছে।  
  • ABC News / CBS News: ট্রাম্প এই বোর্ডের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ডাভোসে করেছেন এবং এটি গাজা পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।