কুইকপোস্ট | লক্ষ্মীপুর

জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ীর নামে মামলা, উদ্বেগে ভোটের স্বচ্ছতা

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ব্যালট সিল তৈরির অভিযোগে এক জামায়াত নেতা ও এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে পুলিশ। উপকূলীয় এই জেলায় ঘটনাটি নির্বাচনী কারচুপির আশঙ্কা আরও জোরালো করেছে।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবির মঙ্গলবার গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে পুরাতন কোর্ট রোডের মরিয়ম প্রেসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছয়টি অননুমোদিত ব্যালট সিল, একটি কম্পিউটার এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে। প্রেসের মালিক সোহেল রানা (৪০)—তুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা—ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার হন।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা স্বীকার করেছেন যে লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের ওয়ার্ড সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪)-এর নির্দেশে তিনি সিলগুলো ছাপিয়েছিলেন। সৌরভ বর্তমানে পলাতক এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ

ঘটনাটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটিকে “নির্বাচন প্রকৌশল” আখ্যা দিয়ে বলেন, ব্যালট জালিয়াতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান।

অন্যদিকে জামায়াতের লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের প্রার্থী রেজাউল করিম প্রেস ক্লাব ব্রিফিংয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সোহেল রানার সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ ঘটনাটিকে “ষড়যন্ত্র” আখ্যা দিয়ে সৌরভকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

তদন্ত ও প্রেক্ষাপট

পুলিশ খতিয়ে দেখছে, উদ্ধার করা সিলগুলো কেবল মক ভোটিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, নাকি বাস্তব নির্বাচনী কারচুপির উদ্দেশ্যে। ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের পর দলটির কার্যক্রম নিয়ে বাড়তি নজরদারির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জব্দ করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নারী প্রার্থীদের অনলাইন হয়রানির অভিযোগের পরপরই এই কেলেঙ্কারি সামনে আসায়, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তেজনাও তত বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।