কুইকপোস্ট  |  লন্ডন ৩ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাজ্য–মার্কিন সম্পর্ক

ট্রাম্পের তীর্যক মন্তব্য: “স্টারমার চার্চিল নন” — বিশেষ সম্পর্কে ইতিহাসের নিম্নবিন্দুতে

ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করলেন — ট্রাম্প বললেন, “এটি চার্চিলের যুগ নয়” এবং সম্পর্ক “আগের মতো নেই”

মূল বিষয়সমূহ

  • ট্রাম্প ওভাল অফিসে বলেন: “এটি উইনস্টন চার্চিল নয় যার সাথে আমরা কাজ করছি”
  • বিবাদের কেন্দ্রে ডিয়েগো গার্সিয়া — ইরানে প্রাথমিক হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার প্রত্যাখ্যান
  • স্টারমার পরে RAF ফেয়ারফোর্ড ও ডিয়েগো গার্সিয়া কেবল “প্রতিরক্ষামূলক হামলার” জন্য অনুমোদন দেন
  • ট্রাম্প: যুক্তরাজ্য “অত্যন্ত অসহযোগিতাপূর্ণ” — সম্পর্ক “আগের মতো নেই”
  • স্টারমার সাইপ্রাসে HMS Dragon যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন-বিরোধী হেলিকপ্টার পাঠালেন
  • ফিনান্সিয়াল টাইমস: স্টারমারের এই পদক্ষেপকে তার “লাভ অ্যাকচুয়ালি মুহূর্ত” বলছে

লন্ডন/ওয়াশিংটন — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ওভাল অফিস থেকে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে তার সবচেয়ে তীক্ষ্ণ প্রকাশ্য আক্রমণ শুরু করেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্টজের পাশে বসে তিনি বলেন, “এটি উইনস্টন চার্চিল নয় যার সাথে আমরা কাজ করছি” — ইরানে প্রাথমিক হামলার জন্য ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে যুক্তরাজ্যের অস্বীকৃতির জন্য এই তিরস্কার। তিনি বলেন, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো “অনেক বেশি ঘণ্টা উড়তে বাধ্য হয়েছে” কারণ ঘাঁটিটি প্রথমে পাওয়া যায়নি।

🇺🇸 ট্রাম্পের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিক ইরান হামলার জন্য ডিয়েগো গার্সিয়া ও RAF ফেয়ারফোর্ড ব্যবহার করতে চেয়েছিল। স্টারমারের অস্বীকৃতি “৩-৪ দিনের” বিলম্ব ঘটিয়েছে বলে ট্রাম্পের অভিযোগ।

🇬🇧 স্টারমারের অবস্থান

স্টারমার পরে কেবল “প্রতিরক্ষামূলক হামলার” জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। সংসদে বলেন: “ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ বিচার করা আমার দায়িত্ব।”

ডিয়েগো গার্সিয়া বিতর্ক — ঠিক কী ঘটেছে

বিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি — যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে পরিচালিত একটি বিশাল কৌশলগত স্থাপনা। যখন ওয়াশিংটন ২৮ ফেব্রুয়ারি “অপারেশন এপিক ফিউরি”-র অংশ হিসেবে এই ঘাঁটি থেকে হামলার অনুমতি চায়, স্টারমার তা প্রত্যাখ্যান করেন। ১ মার্চ রোববার তিনি কেবল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থান ধ্বংসের জন্য — সরাসরি আক্রমণাত্মক হামলার জন্য নয় — ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন।

ট্রাম্প চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসকে হস্তান্তরের যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তকেও “সেই বোকা দ্বীপ” বলে আক্রমণ করেছেন। এই চুক্তিটি দুই সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদের বিষয় — এবং ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে এটি এখন ইরান বিরোধের সাথে মিলে একটি বৃহত্তর অভিযোগে পরিণত হয়েছে।

সেখানে কোথায় অবতরণ করব তা ঠিক করতে তিন-চার দিন লেগে গেছে। বহু বাড়তি ঘণ্টা উড়ে যাওয়ার চেয়ে সেখানে অবতরণ করা অনেক সুবিধাজনক হতো। এটি উইনস্টন চার্চিল নয় যার সাথে আমরা কাজ করছি।
— ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ওভাল অফিস, ৩ মার্চ ২০২৬

সংখ্যায় বিরোধ

৩–৪ ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী UK ঘাঁটি না পাওয়ার কারণে বিলম্বের দিন
২ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত UK ঘাঁটি: ডিয়েগো গার্সিয়া ও RAF ফেয়ারফোর্ড
১ HMS Dragon যুদ্ধজাহাজ সাইপ্রাসে পাঠানো হয়েছে
৪–৫ সপ্তাহ ট্রাম্প বলছেন ইরান যুদ্ধ চলবে

স্টারমারের “লাভ অ্যাকচুয়ালি মুহূর্ত”

ফিনান্সিয়াল টাইমস স্টারমারের এই সাহসী পদক্ষেপকে “লাভ অ্যাকচুয়ালি মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেছে — ২০০৩ সালের বিখ্যাত ব্রিটিশ চলচ্চিত্রের সেই দৃশ্যের উল্লেখ, যেখানে কাল্পনিক একজন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী একজন আগ্রাসী মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে সরাসরি দাঁড়িয়ে যান।

স্টারমার ট্রাম্পের সাথে একটি উষ্ণ ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে অনেক পরিশ্রম করেছিলেন। ব্রিটেন ট্রাম্পকে রাজা চার্লস তৃতীয়ের অতিথি হিসেবে একটি অভূতপূর্ব দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন করেছিল এবং স্টারমার ইউক্রেন সংকটে ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছিলেন। ইরান যুদ্ধ সেই সমস্ত সুসম্পর্ককে মারাত্মক চাপে ফেলেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রাথমিক হামলায় না জড়ানোর আমাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন — কিন্তু ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ বিচার করা আমার দায়িত্ব।
— স্যার কিয়ার স্টারমার, প্রধানমন্ত্রী, ডাউনিং স্ট্রিট বিবৃতি

ইরাকের ছায়া — কেন স্টারমার পিছিয়ে এলেন

২০০৩ সালে টনি ব্লেয়ারের ইরাক যুদ্ধে সমর্থনের বিপর্যয়কর উত্তরাধিকার ব্রিটিশ রাজনীতিতে এখনও গভীরভাবে প্রোথিত। স্টারমার লেবার পার্টির ভেতর থেকে এবং বৃহত্তর জনমত থেকে ভারী চাপে ছিলেন সেই ভুল না করতে। সরকারমন্ত্রী ড্যারেন জোনস সাফ বলেছেন, যুক্তরাজ্য কেবল সেখানে সামরিক পদক্ষেপে যোগ দেয় যেখানে “আইনগত ভিত্তি” ও “স্পষ্ট পরিকল্পনা” আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লর্ড ড্যারক, যিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, বলেন এই ভাষা “বেশ নৃশংস” — যোগ করেন: “ট্রাম্প ব্রিটিশ ঘাঁটি প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট এবং সেই ক্রোধ কিছুদিন থাকবে।”

ঘটনাপ্রবাহ

  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু। স্টারমার ডিয়েগো গার্সিয়া ও অন্যান্য UK ঘাঁটি ব্যবহারে মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
  • ১ মার্চ ২০২৬ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে। স্টারমার কেবল “প্রতিরক্ষামূলক হামলার” জন্য UK ঘাঁটি ব্যবহারের সীমিত অনুমতি দেন।
  • ২ মার্চ ২০২৬RAF আক্রোতিরি, সাইপ্রাসে ইরানি তৈরি ড্রোন আঘাত করে। ট্রাম্প স্টারমারের বিষয়ে “অত্যন্ত হতাশ” বলেন। স্টারমার সংসদে বলেন: “আমরা আকাশ থেকে সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাস করি না।”
  • ৩ মার্চ ২০২৬ট্রাম্প ওভাল অফিসে বলেন স্টারমার “কোনো উইনস্টন চার্চিল নন।” স্টারমার HMS Dragon ও ড্রোন-বিরোধী হেলিকপ্টার সাইপ্রাসে পাঠান।

পরবর্তীতে কী হতে পারে?

ট্রাম্প বলেছেন ইরান যুদ্ধ “চার-পাঁচ সপ্তাহ” চলবে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, নৌবাহিনী ও পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাবনা ধ্বংস করতে চান। তিনি NATO মহাসচিব মার্ক রুটের প্রশংসা করেছেন কিন্তু স্পেন ও যুক্তরাজ্যকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন এই কূটনৈতিক বিরোধের অর্থনৈতিক পরিণতি হতে পারে। ট্রাম্প আগেই যুক্তরাজ্যের পণ্যে — অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস — শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্য থেকে এটি দেখব বলে আমি কখনো ভাবিনি। আমরা যুক্তরাজ্যকে ভালোবাসি। এটি এখন অনেক ভিন্ন ধরনের সম্পর্ক। সম্পর্কটি আগের মতো নেই — এটি দেখতে পাওয়া সত্যিই দুঃখজনক।
— ডোনাল্ড ট্রাম্প, দ্য সান-কে সাক্ষাৎকার, ৩ মার্চ ২০২৬
ট্যাগ ডোনাল্ড ট্রাম্প কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্য–মার্কিন সম্পর্ক ইরান সংঘাত ডিয়েগো গার্সিয়া বিশেষ সম্পর্ক উইনস্টন চার্চিল ন্যাটো ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক