কুইকপোস্ট | ঢাকা
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রেফারেনডামে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘Postal Vote BD’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৪৪৫,৫৮৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোট প্রদান করেছেন।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসী ভোটারদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেছে।
প্রবাসী ভোটের চিত্র
নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে—
- মোট ৫৫,৩৪১টি ডাক ভোট ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে
- ৩,৯৪,১৭৪ জন প্রবাসী ভোটার বিদেশের পোস্ট অফিস বা মেইলবক্সের মাধ্যমে ব্যালট জমা দিয়েছেন
- দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে ১,৫৩৩,৬৮৪ জন ভোটার ‘Postal Vote BD’ অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, ডিজিটাল ও ডাক ভোটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরাও সরাসরি দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অংশ নিচ্ছেন—যা বাংলাদেশের ভোটাধিকার ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন।
বাড়ছে ভোটের প্রবণতা
ইসির ধারাবাহিক আপডেট অনুযায়ী প্রবাসী ভোটগ্রহণের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে—
- ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪০৫,১৬৪টি
- ২৭ জানুয়ারি তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২৫,৭৮৮টি
- ২৮ জানুয়ারি মোট ভোটের সংখ্যা হয় ৪৩২,৯৮৯টি
এই ক্রমবর্ধমান ধারা প্রবাসী ভোটারদের আস্থা ও অংশগ্রহণের শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডিজিটাল উদ্যোগে সহজ হলো ভোটদান
প্রবাসীদের ভোটাধিকার সহজ করতে এবং লজিস্টিক জটিলতা কমাতে ‘Postal Vote BD’ অ্যাপ চালু করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য এই পদ্ধতি বিশেষভাবে কার্যকর হচ্ছে বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী ভোট কেবল সংখ্যার হিসাব নয়। যেসব এলাকায় রেমিট্যান্সের প্রভাব বেশি, সেখানে প্রবাসী ভোট নির্বাচনের ফলাফলেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচন প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালে প্রণীত ‘জুলাই চার্টার’–এর মাধ্যমে যে সাংবিধানিক ও নির্বাচনী সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তারই অংশ হিসেবে প্রবাসী ভোটারদের জন্য ডিজিটাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো।
ইসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব ব্যালট এসে পৌঁছাবে, সেগুলো সম্পূর্ণভাবে গণনার আওতায় আনা হবে। এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের নির্বাচন দেখিয়ে দিচ্ছে—ডিজিটাল ও ডাক ভোটিং পদ্ধতি ভোটাধিকার বিস্তারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে এবং দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাচ্ছে।





