কুইকপোস্ট | বিশ্ব অর্থনীতি

বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক কড়া রাজনৈতিক পোস্টের পর বিটকয়েনের দাম ২৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে, মুছে গেছে তার দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্সি শুরুর পর থেকে অর্জিত প্রায় সব লাভ। সোমবার দুপুর (UTC) পর্যন্ত বিটকয়েনের দাম নেমে আসে প্রায় ৪২ হাজার ডলারে।

এই পতন শুধু বিটকয়েনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এক রাতেই পুরো ক্রিপ্টো বাজার থেকে ৮০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে। ইথেরিয়াম, সোলানা, কার্ডানোসহ প্রায় সব বড় অল্টকয়েন একই সঙ্গে তীব্র পতনের মুখে পড়ে।

কী ঘটেছে?

রোববার রাতে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ একাধিক পোস্টে চীনকে লক্ষ্য করে কঠোর বক্তব্য দেন। তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লেখেন—

“America First মানে বেইজিং হ্যাকারদের চালানো ক্রিপ্টো স্ক্যামে আর এক ডলারও নয়।”

এশিয়ার বাজার খোলা অবস্থায় এই মন্তব্য আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে চীনভিত্তিক মাইনিং কার্যক্রম ও অফশোর ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ক্রিপ্টো বিশ্লেষক রাজ প্যাটেল বলেন,

“এটা প্রায় পূর্ণাঙ্গ ধস। ট্রাম্পের বক্তব্য আবারও প্রমাণ করল—ক্রিপ্টো বাজার রাজনৈতিক ঝুঁকির বাইরে নয়।”

বাংলাদেশেও প্রভাব

বাংলাদেশে গত এক বছরে ক্রিপ্টো লেনদেন প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও অনানুষ্ঠানিক অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে। এই ধসের ফলে বহু খুচরা বিনিয়োগকারী বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ঢাকার এক বিনিয়োগকারী বলেন,

“ট্রাম্পের আগের প্রো-ক্রিপ্টো বক্তব্যে ভরসা করে সঞ্চয় বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন প্রায় সবই শেষ।”

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা নজরদারি আরও কঠোর করতে পারে—বিশেষ করে মূলধন পাচার ও ঝুঁকিপূর্ণ ডিজিটাল বিনিয়োগের বিষয়ে।

রাজনীতি ও ক্রিপ্টোর টানাপোড়েন

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার আশ্বাসে ক্রিপ্টো বাজার চাঙ্গা হয়েছিল। ২০২১ সালে বিটকয়েনের দাম উঠেছিল ৬৯ হাজার ডলার পর্যন্ত। ২০২৫ সালে তার প্রত্যাবর্তনের পর “Bitcoin Reserve” গঠনের ঘোষণায় বাজারে আবার আশার সঞ্চার হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–চীন উত্তেজনা, তাইওয়ান ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং ট্রাম্পের কড়া রাজনৈতিক অবস্থান সেই আশাবাদ উল্টে দিয়েছে। CoinDesk Market Index একদিনেই ২২ শতাংশ কমে যায়, যা ২০২২ সালের FTX বিপর্যয়ের পর সবচেয়ে বড় পতন।

ওয়াল স্ট্রিটেও কম্পন

ক্রিপ্টোতে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান MicroStrategy-এর শেয়ার প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে। ফিউচার বাজারে জল্পনা বাড়ছে—বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডারেল রিজার্ভ জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য পরিষ্কার—

“ক্রিপ্টো এখনো রাজনীতির ছায়া থেকে মুক্ত নয়। ঝুঁকি বোঝা ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্যই টিকে থাকার একমাত্র উপায়।”

সামনে কী?

বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী রাজনৈতিক ঘোষণার দিকে। সামনে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও তাইওয়ান ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে ক্রিপ্টো বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাই করছেন বিশ্লেষকরা।