কুইকপোস্ট | যুক্তরাজ্য রাজনীতি

ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে প্রকাশিত নথিতে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের তথ্য সামনে আসার পর লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন পিটার ম্যান্ডেলসন। তিনি বলেছেন, দলকে আর কোনো “বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ফেলতে চান না।”

সোমবার সকালে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে লেবারের এই প্রভাবশালী লর্ড ও ব্লেয়ার-যুগের সাবেক মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক বিতর্ক দল ও নেতৃত্বের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

“লেবার পার্টিকে রক্ষা করতেই আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি,” বলেন ম্যান্ডেলসন। “আমি জনসেবায় বিশ্বাসী, কিন্তু এখন জল্পনা-কল্পনার অবসান দরকার।”

আদালতের নথিতে কী উঠে এসেছে

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত এপস্টেইন–সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ করে। এগুলো ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে-র করা এক মানহানি মামলার অংশ। সেই নথিতে দেখা যায়—

  • ২০১০ সালে এপস্টেইন পিটার ম্যান্ডেলসনকে ৭৫,০০০ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছিলেন
  • অর্থের উদ্দেশ্য হিসেবে নথিতে উল্লেখ ছিল “consulting fee”

সে সময় ম্যান্ডেলসন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত। তিনি অতীতে দাবি করেছিলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল কেবল সামাজিক পর্যায়ে, পেশাগত বা ঘনিষ্ঠ নয়।

তবে নতুন নথিতে এমন ইমেইলের কথাও উল্লেখ রয়েছে, যেখানে এপস্টেইন ম্যান্ডেলসনকে “strategic adviser” হিসেবে পরিচয় করিয়েছিলেন—যা বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

স্টারমারের প্রতিক্রিয়া

লেবার নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগে দুঃখ প্রকাশ করলেও একে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন।

“পিটার দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দল ও দেশকে সেবা দিয়েছেন,” বলেন স্টারমার। “এই আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে দল তখন কিছু জানত না।”

রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনা

বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনায় নেমেছে। কনজারভেটিভ এমপি লি অ্যান্ডারসন কটাক্ষ করে বলেন,

“লেবারের ‘লর্ড অব স্পিন’ এবার এপস্টেইনের জালে ধরা পড়েছেন—পূর্ণ স্বচ্ছতা এখন জরুরি।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ট্রেন্ড করতে শুরু করে #MandelsonEpstein।

শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ইয়ভেট কুপার একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নাম উঠে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চাচ্ছে।

পুরোনো ছায়া, নতুন সংকট

৭২ বছর বয়সী ম্যান্ডেলসন ছিলেন ১৯৯৭ সালের নিউ লেবার জয়ের অন্যতম প্রধান কৌশলী। তবে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি আগেও ‘cash-for-access’ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছেন।

এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে—কুখ্যাত “ললিটা এক্সপ্রেস”—তার ভ্রমণের তথ্য আগেই আলোচিত হয়েছিল, যা তিনি তখন “smear campaign” বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু সরাসরি অর্থ লেনদেনের নথি সামনে আসায় এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই পদত্যাগ দলকে কিছুটা হলেও চাপমুক্ত করবে। তবে এপস্টেইন কেলেঙ্কারির ছায়া যে এখনো ব্রিটিশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

ম্যান্ডেলসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অর্থ ছিল বৈধ নীতিগত পরামর্শের পারিশ্রমিক, যার সঙ্গে এপস্টেইনের অপরাধের কোনো যোগ নেই।

তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—

এই ৭৫ হাজার ডলার কি সত্যিই কেবল পরামর্শ ফি, নাকি আরও গভীর কোনো গল্পের অংশ?