কুইকপোস্ট | ঢাকা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে খোলা চিঠি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের
বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মানবাধিকার সুরক্ষায় স্পষ্ট ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, রাজনৈতিক রূপান্তরের এই সময় যেন নতুন করে দমন-পীড়নের সুযোগে পরিণত না হয়। চিঠিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সংগঠনের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অ্যামনেস্টির ভাষায়, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং বিরোধী কণ্ঠ দমনের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। “এই অন্তর্বর্তী সময় যেন কেবল নামমাত্র পরিবর্তন না হয়—তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার,” চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
পটভূমি কী
২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ২০২৫ সালের শেষ ভাগ কিংবা ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অ্যামনেস্টির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনসংক্রান্ত সহিংসতায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়, যা দেশের পরিস্থিতির নাজুক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
অ্যামনেস্টির মূল দাবি
খোলা চিঠিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যে দাবিগুলো তুলে ধরেছে, সেগুলো হলো—
- নির্বিচার গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ
- মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত
- সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের ওপর ডিজিটাল নজরদারি বন্ধ
- নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা
অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক বলেন, ড. ইউনূসের সামনে দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভাঙার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। এখনই মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে নির্বাচনের ওপর মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
ড. ইউনূসের দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় একটি “স্বাধীন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন” আয়োজনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে অ্যামনেস্টির নির্দিষ্ট দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসকে একদিকে ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলনের চাপ সামলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমন্বয়ের কঠিন সমীকরণও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
শেষ কথা
নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অ্যামনেস্টির এই খোলা চিঠি বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—এবার কি মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সত্যিই অগ্রাধিকার পাবে, নাকি অতীতের ভুলগুলো আবারও ফিরে আসবে?





