কুইকপোস্ট | কুষ্টিয়া | জেলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দমন–পীড়ন, গ্রেপ্তার, নিষেধাজ্ঞা ও হত্যার ইতিহাস থাকার পরও জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে যাবে না।

সোমবার কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বারবার জেলে দেওয়া হয়েছে, দলীয় কার্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে, বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

“এরপরও ৫ আগস্টের রাতেই আমরা ঘোষণা দিয়েছি—কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না,” বলেন তিনি। “মিথ্যা মামলায় কাউকে ফাঁসানো হবে না। অন্যায়ভাবে আমরা একজন মানুষকেও মামলার আসামি করিনি।”

শহিদ আবরার ফাহাদ-এর প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

“আবরার ফাহাদ একটি বিদ্রোহের নাম,” তিনি বলেন। “আধিপত্যের বিরুদ্ধে কলম ধরাই ছিল তার অপরাধ। সেই কারণেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের তরুণরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। তিনি ওই আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

কুষ্টিয়ার স্থানীয় সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান পদ্মা ও গড়াই নদীর অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর নদী খননের নামে বাজেট বরাদ্দ হলেও বাস্তবে তার সুফল পাওয়া যায় না, ফলে নদীভাঙনে বছরের পর বছর মানুষের জীবন ও স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তাও দেন। আগস্টের পর কিছু কর্মী এ ধরনের কাজে জড়িয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, “অভাবের কারণে কেউ যদি এসব করে থাকেন, সরে আসুন। আল্লাহ যে হালাল রিজিক দিয়েছেন, তা ভাগ করে খেতে আমরা প্রস্তুত। চাঁদাবাজির রাজনীতি জামায়াতে নেই।”

শেষে তিনি বলেন, জামায়াত এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে নারী ও পুরুষ সবাই মর্যাদাপূর্ণ কাজ পাবে। বিশেষ করে তরুণদের শক্তি ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়ার বিভিন্ন আসনের জামায়াত প্রার্থীরাও এতে অংশ নেন।