কুইকপোস্ট | দাভোস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump আফগানিস্তান যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাদের ভূমিকা নিয়ে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্য থেকে আংশিকভাবে সরে এসেছেন। তবে তিনি সরাসরি ক্ষমা চাননি। দাভোসে অনুষ্ঠিত World Economic Forum–এর ফাঁকে Fox News–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের পর যুক্তরাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ একটি বার্তা দিয়ে ব্রিটিশ সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
এই মন্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্য সম্পর্ক, ন্যাটো জোটের ঐক্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কী বলেছিলেন ট্রাম্প
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আফগানিস্তানে প্রায় দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধে ন্যাটোর কিছু মিত্র দেশ—যার মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে—“সবসময় ফ্রন্টলাইনে ছিল না।”
এই বক্তব্য যুক্তরাজ্যে ইতিহাস বিকৃতি হিসেবে দেখা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আফগান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন এবং আরও হাজারো সেনা গুরুতরভাবে আহত হন। বিশেষ করে হেলমান্দ প্রদেশে তালেবানের বিরুদ্ধে চালানো উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্রিটিশ বাহিনী সামনের সারিতেই লড়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer ট্রাম্পের মন্তব্যকে
“অপমানজনক ও গ্রহণযোগ্য নয়” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সেনারা একই যুদ্ধক্ষেত্রে একই রক্ত ঝরিয়েছে।”
আফগানিস্তানে দুই দফা দায়িত্ব পালন করা Prince Harry প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান।
নিহত ও আহত সেনাদের পরিবারগুলোও মন্তব্যে গভীর কষ্ট প্রকাশ করে।
ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় দলের এমপিরাই এটিকে ন্যাটো জোটের ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।
বিতর্কের পর ট্রাম্প কী বললেন
বিতর্কের চাপ বাড়ার পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন—
“যুক্তরাজ্যের মহান ও সাহসী সৈন্যরা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে। আমরা আপনাদের ভালোবাসি।”
তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানে নিহত ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনা ছিলেন
“সর্বকালের সেরা যোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম।”
তবে তিনি তার আগের মন্তব্য ভুল ছিল—এমন কোনো স্পষ্ট স্বীকারোক্তি বা আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ করেননি।
বড় প্রেক্ষাপট: ন্যাটো ও ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক টানাপোড়েন
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার চাপ দিচ্ছেন।
একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি—এসব ইস্যুতে ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্কে চাপ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ও পরবর্তী ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্যের তথাকথিত “স্পেশাল রিলেশনশিপ”–এ সাময়িক অস্বস্তি তৈরি করলেও, অতীতেও দুই দেশ এমন পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে।
সামনে কী হতে পারে
পর্যবেক্ষকেরা নজর রাখছেন, আসন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেন কি না।
ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার মধ্যে ন্যাটোর ঐক্য এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।





