মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা: ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, খামেনি নিহত, আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তৃত
তেহরানে ব্যাপক বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু নিশ্চিত — লেবানন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে সংঘাত — ট্রাম্প বলছেন, ‘শেষ ও সেরা সুযোগ’ কাজে লাগানো হয়েছে
সংক্ষেপে এখন পর্যন্ত
- ট্রাম্প: ইরানে হামলা “শেষ ও সেরা সুযোগ” — ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলমান
- আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত — ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু নিশ্চিত
- লেবানন: ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫২, আহত ১৫৪+, ২৮,৫০০+ বাস্তুচ্যুত
- কাতার: ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫টি ড্রোন ভূপাতিত — বিমানবাহিনীর দাবি
- যুক্তরাজ্য: হামলায় সরাসরি যোগ দেয়নি — স্টারমার কমন্সে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন
- ইরানের জবাব: উপসাগরীয় ৬টি দেশ, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সাইপ্রাস ঘাঁটিতে হামলা
তেহরান/ওয়াশিংটন/বৈরুত — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে বলেন, ইরানে পরিচালিত “অপারেশন এপিক ফিউরি” ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও নির্ভুল বিমান অভিযান। শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এই যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন — যা ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া নিজেই নিশ্চিত করেছে। জেনেভায় সর্বশেষ কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।
🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্প বলেছেন অভিযান “সপ্তাহের পর সপ্তাহ” চলবে। ৪ মার্কিন সেনা নিহত। ১,০০০+ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি।
🇮🇷 ইরান
২০০+ নিহত, ৭০০+ আহত। ইন্টারনেট বন্ধ। পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় ৬ দেশ, ইসরায়েল ও ইরাকে আঘাত।
🇱🇧 লেবানন
হিজবুল্লাহ রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে হামলা করে। নিহত ৫২, বাস্তুচ্যুত ২৮,৫০০+।
⛽ বিশ্ব অর্থনীতি
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ। তেলের মূল্য ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চে। বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা।
কেন এই হামলা?
ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখে ওমান ও ১৭ তারিখে জেনেভায় দুটি কূটনৈতিক বৈঠকে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে অস্বীকার করে। জেনেভায় ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা “যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো অনুগ্রহ চান না।” এর পরই ট্রাম্প সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন।
এটি ছিল আমাদের শেষ ও সেরা সুযোগ — এই অসহনীয় হুমকি দূর করার। তারা পারমাণবিক গবেষণা বন্ধ করতে রাজি ছিল না।— ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, হোয়াইট হাউস
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১০০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। পাশাপাশি কুয়েতে কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ভুলক্রমে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে পেন্টাগনের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
লেবানন: যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ল
হিজবুল্লাহ সোমবার ভোরে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট হামলা চালায় — ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটি প্রথম বড় লঙ্ঘন। হামলাটি ছিল খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠ এবং দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় ব্যাপক হামলা চালায়।
হিজবুল্লাহ খামেনির পথ অনুসরণ করলে শীঘ্রই নিজেকে নরকের গভীরে খুঁজে পাবে।— ইসরায়েল কাৎজ, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
কাতার: গ্যাস স্থাপনা ঘিরে উত্তেজনা
ইরান দোহায় বিস্ফোরণ ঘটায় — ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় বারওয়া এলাকার কাছে। কাতার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, ৭টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫টি ড্রোন এবং দুটি Su-24 যুদ্ধবিমান সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। কাতারে বিশাল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ থাকায় এটি ছিল ইরানের অন্যতম মূল লক্ষ্যবস্তু।
যুক্তরাজ্যের অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার কমন্স হাউসে স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য প্রাথমিকভাবে হামলায় যোগ দেয়নি। তবে পরে তিনি মার্কিন বাহিনীকে সাইপ্রাসের RAF আক্রোতিরি ঘাঁটি “প্রতিরক্ষামূলক” উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেন। অনুমতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘাঁটিটিতে ড্রোন হামলা হয় — তবে ক্ষয়ক্ষতি সামান্য এবং কোনো হতাহতের খবর নেই।
আমরা ‘আকাশ থেকে সরকার পরিবর্তন’-এ বিশ্বাস করি না। ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার দায়িত্ব — এবং আমি সেই সিদ্ধান্তের পাশে আছি।— কিয়ার স্টারমার, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, কমন্স হাউস
ঘটনার ধারাবাহিকতা
- ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ ওমানে মার্কিন-ইরান পারমাণবিক আলোচনা — কোনো অগ্রগতি হয়নি।
- ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ জেনেভায় চূড়ান্ত দফা আলোচনা ভেঙে পড়ে। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে অস্বীকার করে।
- ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলা শুরু। তেহরানে ব্যাপক বিস্ফোরণ। খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত।
- মার্চ ১, ২০২৬ ইরান পাল্টা হামলায় ইসরায়েল, UAE, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্দান ও সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
- মার্চ ২, ২০২৬ হিজবুল্লাহর হামলার পর লেবাননে ইসরায়েলি হামলা। RAF আক্রোতিরিতে ড্রোন আঘাত। ট্রাম্প ঘোষণা করেন অভিযান সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলবে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ হামলার বিরোধিতা করা একমাত্র ইইউ নেতা। আমেরিকার কংগ্রেসে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। পাকিস্তানে জাতিসংঘ কার্যালয়ে আগুন ও মার্কিন কনস্যুলেট ঘেরাওয়ের ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছে।
JPMorgan-এর সিইও জেমি ডিমon সাইবার ও সন্ত্রাসী হামলা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। Amazon মধ্যপ্রাচ্যে ডেলিভারি বিলম্বের সতর্কতা দিয়েছে। এশিয়ার শেয়ার বাজার ব্যাপকভাবে পড়েছে এবং তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।





