অভিবাসন · UK নীতি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নতুন সিদ্ধান্তে প্রতি ৩০ মাসে শরণার্থী মর্যাদার পুনর্মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক — এটি এক প্রজন্মের মধ্যে যুক্তরাজ্যের আশ্রয়ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় সংস্কার।

লন্ডন প্রতিনিধি | কুইকপোস্ট | ২ মার্চ ২০২৬

Breaking Update

নতুন নিয়ম আজ থেকেই কার্যকর — ২ মার্চ, ২০২৬

লন্ডন — যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সোমবার ঘোষণা করেছেন যে আজ থেকে দেশটির আশ্রয়ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়মে শরণার্থী মর্যাদা আর আজীবনের নিশ্চয়তা থাকবে না — প্রতি ৩০ মাসে তা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। UK Home Office এর সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “Refugee status will become temporary and subject to review.”

মূল পরিবর্তনসমূহ

  • প্রাপ্তবয়স্ক ও সঙ্গী শিশুদের শরণার্থী মর্যাদা এখন থেকে মাত্র ৩০ মাসের জন্য
  • নিজ দেশ নিরাপদ বিবেচিত হলে ফেরত পাঠানো হবে
  • আগের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পুরনো নিয়ম (৫ বছর) বহাল থাকবে
  • অভিভাবকহীন শিশুরা এখনও ৫ বছরের সুরক্ষা পাবে
  • সংসদীয় ভোট ছাড়াই বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন

কেন এই পরিবর্তন?

সরকারের মতে, পুরনো ব্যবস্থা ছিল পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অত্যন্ত উদার — পাঁচ বছরের সুরক্ষা, পরিবার আনার সুযোগ এবং প্রায় বিনা শর্তে স্থায়ী বসবাসের অধিকার। এই উদারতাই বিপুল সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে উৎসাহিত করছিল বলে সরকার মনে করে।

৪১,০০০+ ২০২৫ সালে ছোট নৌকায় চ্যানেল পার হওয়া মানুষ
১ লাখ+ বর্তমানে সরকারি আবাসনে থাকা আশ্রয়প্রার্থী
৯০% ডেনমার্কে এক দশকে আশ্রয় দাবি হ্রাস পেয়েছে
২০ বছর নতুন নিয়মে স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত সপ্তাহে ডেনমার্ক সফর করেন, যে দেশটি একইরকম কঠোর নীতি গ্রহণের পর এক দশকেরও কম সময়ে আশ্রয়ের দাবি ৯০ শতাংশেরও বেশি কমিয়েছে। সেই মডেলকেই সামনে রেখে এই সংস্কার ডিজাইন করা হয়েছে।

আমরা এমন একটি কঠিন ব্যবস্থা তৈরি করছি যাতে আমাদের আশ্রয়ব্যবস্থা অবৈধভাবে আগমনের ‘টানের কারণ’ না হয়ে ওঠে।
— শাবানা মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যুক্তরাজ্য

নতুন রুট: কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ

নতুন নিয়মে শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, সুযোগও রাখা হয়েছে। যেসব শরণার্থী কর্মসংস্থান পাবেন বা উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হবেন, তারা ‘Protection Work and Study’ রুটে আবেদন করতে পারবেন — এই রুটে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দ্রুত মিলতে পারে এবং পরিবার আনার সুবিধাও থাকবে।

ঘটনার ধারাবাহিকতা

  • নভেম্বর ২০২৫ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘Restoring Order and Control’ শীর্ষক নীতিপত্র ঘোষণা করেন — আজীবন শরণার্থী সুরক্ষার অবসান ঘোষণা।
  • সেপ্টেম্বর ২০২৫ পারিবারিক পুনর্মিলনের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
  • ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ মাহমুদ ডেনমার্ক সফর করেন এবং সেদেশের অভিবাসন নীতির সাফল্য নিজে দেখেন।
  • ২ মার্চ, ২০২৬ নতুন নিয়ম কার্যকর। ৩০ মাসের অস্থায়ী শরণার্থী মর্যাদা চালু।

পক্ষ-বিপক্ষের প্রতিক্রিয়া

সরকারের যুক্তি

মাহমুদ বলেছেন, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আশ্রয়ব্যবস্থাকে কম আকর্ষণীয় করতে হবে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনকও বলেছেন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সমালোচকদের উদ্বেগ

রিফিউজি কাউন্সিলের মতে, এই প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল এবং শরণার্থীদের সামাজিক একীভূতকরণ ও মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। প্রায় ৪০ জন লেবার এমপি নীতিটিকে “অব্রিটিশ” বলেছেন।

Rainbow Migration-এর নীতি ব্যবস্থাপক মিনেশ পারেখ বলেছেন, এলজিবিটিকিউ+ আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এই অনিশ্চয়তা বিশেষভাবে বিপজ্জনক, কারণ “নিরাপদ দেশ” নির্ধারণে যৌন পরিচয়ভিত্তিক নিপীড়ন সবসময় বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

যদি আমরা এই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হই, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।
— শাবানা মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সামনে কী?

স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষার সময় ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর (সাধারণ অভিবাসী) এবং ২০ বছর (শরণার্থী) করার প্রস্তাব সংসদে যাবে। যারা অবৈধ পথে এসেছেন তাদের জন্য এই মেয়াদ ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল থেকে ডরমিটরি-ধরনের আবাসনে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৯ সালের সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে অভিবাসন ইস্যুটি লেবার সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হতে চলেছে।