কুইকপোস্ট | ঢাকা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকার একের পর এক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতায় অগ্রসর হওয়ায় দেশে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটের ঠিক প্রাক্কালে এমন গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ রাজনৈতিক নৈতিকতা ও সাংবিধানিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

শেষ মুহূর্তে একের পর এক চুক্তি

গত কয়েক সপ্তাহে সরকার অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্য খাতে অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন শুল্ক ও বাণিজ্য সমঝোতা
  • জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা
  • চীনের সঙ্গে ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনের চুক্তি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব নির্বাচনের আয়োজন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে কৌশলগত চুক্তি করা ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে।

প্রতিরক্ষা ও বন্দর চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও বন্দর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চুক্তিগুলো নিয়ে। আলোচনায় রয়েছে বিভিন্ন দেশের যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ক্রয়ের সম্ভাবনা। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, লালদিয়া ও পাঙ্গাঁও বন্দরের ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানির হাতে দীর্ঘ সময়ের জন্য তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সমালোচকদের অভিযোগ, এসব চুক্তির শর্তাবলি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। গোপনীয়তার কারণে শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, “রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া এ ধরনের চুক্তি ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।”

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এসব সিদ্ধান্তকে “অস্বচ্ছ ও নিয়মবহির্ভূত” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মতে, শেষ মুহূর্তে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত জবাবদিহির প্রশ্ন তোলে।

সরকারের ব্যাখ্যা

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব চুক্তি দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ সহজ করবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন দাবি করেছেন, এগুলো বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

সামনে কী

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদ গঠনের পর এসব চুক্তি সংসদে উত্থাপন ও পর্যালোচনা করা জরুরি। হোয়াইট পেপার প্রকাশের মাধ্যমে শর্তাবলি জনসমক্ষে আনলে বিতর্ক অনেকটাই কমতে পারে।

নির্বাচনের মুখে এমন সিদ্ধান্তগুলো শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আস্থাকে কতটা প্রভাবিত করবে—সেটিই এখন দেশের বড় প্রশ্ন।

সূত্র:

The Daily Star, Prothom Alo, Reuters, Al Jazeera, Transparency International Bangladesh