কুইকপোস্ট | জাতিসংঘ
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের যুগ কি শেষের পথে?
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সর্বশেষ বড় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্ট (New START) আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়াদ শেষ করেছে। এ ঘটনাকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ভুল সময়ে সংঘটিত” বলে মন্তব্য করেছেন United Nations মহাসচিব António Guterres। তাঁর সতর্কতা—বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অবসান বিশ্বকে অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
নিউ স্টার্ট কী ছিল
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০২১ সালে একবার বাড়ানো এই চুক্তির আওতায় United States ও Russia—উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ
- ১,৫৫০টি মোতায়েনকৃত কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড,
- ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী বোমারু বিমানএই সীমার মধ্যে রাখতে বাধ্য ছিল।
চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পারস্পরিক পরিদর্শন ও যাচাই ব্যবস্থা, যা স্বচ্ছতা ও আস্থার একটি কাঠামো তৈরি করেছিল।
কেন এই অবসান বিপজ্জনক
গুতেরেস বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের শক্তি প্রতিযোগিতার মধ্যে এই চুক্তির অবসান পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করেছে। তাঁর ভাষায়,
“কোনো বাধ্যতামূলক সীমা বা যাচাই ব্যবস্থা না থাকলে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত দ্রুত বাড়তে পারে—যা এক ভয়ংকর চক্রের সূচনা করবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থাকছে না। ফলে উভয় দেশ চাইলে তাদের অস্ত্র ও ডেলিভারি সিস্টেম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারবে।
ওয়াশিংটন ও মস্কোর অবস্থান
রাশিয়া ২০২৩ সালে যাচাই কার্যক্রম স্থগিত করলেও সংখ্যাগত সীমা মানার কথা বলেছিল। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেই অঙ্গীকার আর বাধ্যতামূলক নয়। প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়া স্বেচ্ছায় কিছু সীমা মানতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ যাচাই ও স্বচ্ছতা পুনর্বহালের ওপর জোর দিচ্ছে—যা বর্তমান নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রভাব ও সামনে পথ
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই শূন্যতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। Chinaসহ অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশও নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই গুতেরেস জাতিসংঘের মাধ্যমে জরুরি কূটনীতি শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন এবং দ্রুত নতুন কোনো চুক্তির পথে যেতে দুই পক্ষকে অনুরোধ করেছেন।
বিশ্ব এখন অপেক্ষায়—এই অবসান কি নতুন আলোচনার দ্বার খুলবে, নাকি মানবসভ্যতা আরও অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক এক পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করবে।





