কুইকপোস্ট | লন্ডন

লেবার বিদ্রোহে চাপে স্টারমার, অবস্থান বদলাতে বাধ্য সরকার

ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে লেবার পার্টির ভেতর থেকেই। সাবেক ডেপুটি লেবার নেতা Angela Rayner-এর নেতৃত্বে একদল লেবার এমপি প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিলে, বিতর্কিত ম্যান্ডেলসন ফাইলস ইস্যুতে সরকারকে দ্রুত নীতিগত পরিবর্তনের পথে যেতে হয়।

বুধবার House of Commons-এ উত্তপ্ত বিতর্কে রেইনার দাবি করেন, জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কিত Peter Mandelson-এর নথি বাছাই করে প্রকাশের সিদ্ধান্ত জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। তার মতে, এই প্রক্রিয়া সংসদের Intelligence and Security Committee (ISC)-এর তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত, যাতে গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতার মধ্যে ভারসাম্য থাকে।

রেইনারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন লেবার এমপি Meg Hillier ও Clive Efford। এফোর্ড বলেন,

“স্বাধীন নজরদারির পক্ষে এখন সংসদে স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে।”

তারা সরকারের প্রাথমিক অবস্থানকে অস্বচ্ছ ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর বলে আখ্যা দেন।

স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন

চাপের মুখে ক্যাবিনেট অফিসের মন্ত্রী Nick Thomas-Symonds ইঙ্গিত দেন, সংসদের মনোভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। স্পিকার Lindsay Hoyle-এর সংশোধনী নিয়ে সরকারের খোলা মনোভাবও পিছু হটার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই স্টারমারের কর্তৃত্বে ফাটল স্পষ্ট। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচন প্রত্যাশামতো না হলে নেতৃত্ব নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠতে পারে—এমন গুঞ্জনও Westminster-এ শোনা যাচ্ছে।

লেবারের ভেতরের দ্বন্দ্ব, বিরোধীদের সুযোগ

এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন Conservative Party-র জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা Kemi Badenoch মন্তব্য করেন,

“স্টারমারের নিজের দলই তার গোপনীয়তা মেনে নিতে পারছে না।”

এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট অভিযোগে লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম উঠে আসায় লেবারের নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে। রেইনার নিজেকে গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতার পক্ষে বললেও, সমালোচকদের মতে এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব রাজনীতির অংশও হতে পারে।

সামনে কঠিন পরীক্ষা

ম্যান্ডেলসন নথি বিতর্ক এখন শুধু একটি নথি প্রকাশের প্রশ্ন নয়। এটি লেবার পার্টির ঐক্য, নেতৃত্বের স্থিতি এবং সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। আসন্ন ডেভলভড ও স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে স্টারমারের জন্য দলকে এক রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।