কুইকপোস্ট | আন্তর্জাতিক ক্রিকেট
আইসিসি মেনস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল টুর্নামেন্ট। পাকিস্তান দল ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ খেলবে না। সরকার অনুমোদিত এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। International Cricket Council (আইসিসি) কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে—এর “গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি” হতে পারে।
কেন এই বয়কট
Pakistan Cricket Board (পিসিবি) গ্রুপ ‘এ’-এর বাকি ম্যাচগুলো—যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে—খেলার অনুমতি পেয়েছে। তবে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
পিসিবির অবস্থানের পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের প্রতি সংহতি। ২৪ জানুয়ারি নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এই সিদ্ধান্তকে “ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি—ভারতকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানের সব ম্যাচই নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় নির্ধারিত।
আইসিসির কঠোর অবস্থান
আইসিসি জানিয়েছে, নির্বাচিত ম্যাচ না খেলা ক্রিকেটের অখণ্ডতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। বোর্ড সূত্রে যেসব বিষয় আলোচনায় রয়েছে—
- ম্যাচ ফরফিট ও ২ পয়েন্ট কর্তন
- নেট রান রেটে বড় ক্ষতি
- টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার
- ভবিষ্যৎ আসরে নিষেধাজ্ঞা
ব্রডকাস্টারদের ক্ষতিপূরণ দাবির ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
গ্রুপ ‘এ’ ও প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের একাংশ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মিডল-অর্ডার ব্যাটার সালমান আলি আগা সমর্থন জানিয়েছেন। সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমল একে খেলায় রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ স্পষ্ট। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে রেকর্ড ভিউয়ারশিপ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই দ্বন্দ্ব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
বড় ছবিটা
এক মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে জোটভিত্তিক ক্রিকেট ও দ্বিপাক্ষিক সূচি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে। বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে এটি সীমান্ত-সংলগ্ন ম্যাচে নিরাপত্তা ইস্যুর বাস্তবতাও সামনে আনছে।
আইসিসির জরুরি বৈঠকে শিগগিরই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ক্রিকেট দুনিয়া এখন সেদিকেই তাকিয়ে।





