কুইকপোস্ট | ঢাকা

বাংলাদেশের আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় AI-তৈরি ডিপফেক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব কনটেন্টে কোনো সতর্কতা বা “AI-উৎপাদিত” লেবেল নেই। ফলে ভোটার বিভ্রান্তি, ভুয়া বার্তা এবং ভিত্তিহীন রাজনৈতিক প্রচারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান Dismislab জানিয়েছে, ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে শত শত ডিপফেক ক্লিপ শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ভিডিওতে কৃত্রিমভাবে তৈরি চরিত্র—পুলিশ কর্মকর্তা, শিশু কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের অবতার—বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন বা বিরোধিতার বার্তা দিচ্ছে।

ভোটের সময়ে বিভ্রান্তির ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী উত্তাপে মানুষ সাধারণত এমন তথ্য দ্রুত বিশ্বাস করে যা তাদের আগের মতামতকে শক্ত করে—একে বলা হয় কনফার্মেশন বায়াস। এই প্রবণতা ডিপফেক ভিডিওগুলোকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে।

ইউল্যাবের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সুমন রহমান বলেন,

“AI সচেতনতা কম থাকায় অনেকেই ভিডিও যাচাই না করেই বিশ্বাস করছেন। এতে অনির্ধারিত ভোটারদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

কী ধরনের ডিপফেক ছড়াচ্ছে

Dismislab–এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষকে ঘিরে ডিপফেক কনটেন্টে—

  • ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য দিয়ে নির্দিষ্ট দলের পক্ষে প্রচার
  • সংখ্যালঘু পরিচয়ের AI অবতার দিয়ে নিরাপত্তার আশ্বাস
  • শিশু অবতার দিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন তুলে ধরা
  • বিরোধী পক্ষকে ঘিরে অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগভিত্তিক চিত্রায়ন

এসব ভিডিও দ্রুত ছড়ালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উৎস বা প্রামাণ্যতা যাচাই করা যাচ্ছে না।

প্ল্যাটফর্ম নীতি ও বাস্তবতার ফাঁক

Meta (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) তাদের নীতিতে AI-উৎপাদিত কনটেন্টে স্বচ্ছতা লেবেল বাধ্যতামূলক বলেছে। তবে Dismislab জানায়, ১–১৫ জানুয়ারি সময়কালে বিশ্লেষিত ৮০০টিরও বেশি ভিডিওতে এই নীতি মানা হয়নি।

টিকটক ও ইউটিউব “Election Center” ও ফ্যাক্ট-চেকিং উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে নজরদারি কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। নীতি আছে, কিন্তু প্রয়োগে ঘাটতি স্পষ্ট।

ডিজিটাল প্রচারণা ও নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ

২০২৪–এর পর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় অনলাইন প্রচারণা বেড়েছে। একই সঙ্গে AI ডিপফেক দ্রুত ছড়াচ্ছে, যা সত্য-মিথ্যা আলাদা করা কঠিন করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন, প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ এবং সিভিল সোসাইটিকে একসঙ্গে কাজ করে—

  • ডিপফেক শনাক্তকরণ জোরদার
  • বাধ্যতামূলক লেবেল প্রয়োগ
  • ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি
    নিতে হবে।

ডিজিটাল প্রচারণা নির্বাচনী বাস্তবতার অংশ হলেও ডিপফেকের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় ঝুঁকি। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভোটার আস্থা ও তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।