কুইকপোস্ট | লন্ডন
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর চারদিনের চীন সফর শেষ হওয়ার পর কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তাঁর মন্তব্য, লন্ডনের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়া যুক্তরাজ্যের জন্য “খুবই বিপজ্জনক” হতে পারে।
ওয়াশিংটনে একটি চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানো পশ্চিমা জোটের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
স্টারমারের বেইজিং সফর
স্টারমার গত চার দিন চীনে অবস্থান করেন, যা গত আট বছরে কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক চীন সফর। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক নতুনভাবে স্থিতিশীল করা।
এই সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে বৈঠক করেন, যাকে স্টারমার “ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক” বলে উল্লেখ করেন। আলোচনায় যুক্তরাজ্যের হুইস্কির ওপর চীনের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামানো, ৩০ দিনের কম সময়ের জন্য ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সুবিধা, এবং AstraZeneca-র মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চীনে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি উঠে আসে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প স্টারমারের চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে “অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ” বলে আখ্যা দেন। তাঁর ভাষায়, “চীন খুব কৌশলীভাবে সম্পর্ক তৈরি করে। পশ্চিমা দেশগুলোর আরও সতর্ক হওয়া উচিত।”
একই বক্তব্যে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ব্যক্তিগতভাবে “বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করলেও, চীনের বৈশ্বিক কৌশল নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতির ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান
স্টারমার সরকারের দাবি, যুক্তরাজ্য একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক বজায় রাখবে, অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্যিক সুযোগ কাজে লাগাবে।
তবে যুক্তরাজ্যের ভেতরে সমালোচকরা অভিযোগ করছেন, চীনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা পশ্চিমা নিরাপত্তা জোট এবং মানবাধিকার অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্য ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত দ্বন্দ্বের মধ্যে যুক্তরাজ্যের মতো মিত্র দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন ভারসাম্য খুঁজছে।
স্টারমারের বাণিজ্যকেন্দ্রিক কূটনীতি ব্রেক্সিট-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি যুক্তরাজ্যকে নতুন ভূরাজনৈতিক চাপের মুখেও ফেলতে পারে। অনেক বিশ্লেষক এটিকে নতুন শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখছেন।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে স্টারমারের উদ্যোগ এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য সতর্কবার্তা—দুটো মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে।
সূত্র:
CNBC, The Guardian, Reuters, BBC News, Quickpost News





