লন্ডন | জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরকে “চরম বোকামি” বলে আখ্যা দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য সরকার চুক্তিটি জোরালোভাবে রক্ষা করেছে। লন্ডনের দাবি, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখা।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী—যা এখনও পার্লামেন্টে অনুমোদনের অপেক্ষায়—যুক্তরাজ্য Chagos Islands-এর সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাজ্য–যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক ঘাঁটি ৯৯ বছরের লিজে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যা প্রয়োজনে আরও ৪০ বছর বাড়ানো যেতে পারে।
যুক্তরাজ্যের বক্তব্য: ঘাঁটি সুরক্ষাই মূল লক্ষ্য
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আদালতের একাধিক রায়ের ফলে যুক্তরাজ্যের আইনি অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই বাস্তবতায় চুক্তিটি ছাড়া ঘাঁটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতো।
প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer–এর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন,
“ডিয়েগো গার্সিয়া বা স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে আমাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন নেই। যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিকে সমর্থন করে এবং আমাদের সব ‘ফাইভ আইজ’ মিত্ররাও ঘাঁটির জাতীয় নিরাপত্তা গুরুত্ব বোঝে।”
ট্রাম্পের আপত্তি ও গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ
Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাজ্য “কোনো কারণ ছাড়াই” যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটি হস্তান্তর করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তই গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার যুক্তিগুলোর একটি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন সুরে
ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন আগেই এই চুক্তিকে সমর্থন করেছে। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে “গুরুত্বপূর্ণ অর্জন” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।
যুক্তরাজ্যও স্পষ্ট করেছে—চুক্তির ফলে ডিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।
কেন ডিয়েগো গার্সিয়া এত গুরুত্বপূর্ণ
ডিয়েগো গার্সিয়া কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে—
- ৯/১১-এর পর আফগানিস্তানে অভিযানে জ্বালানি ও বোমারু বিমান সহায়তা
- ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্যের যৌথ অভিযান
- মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজ USNS Comfort মোতায়েন
- ২০২৫ সালে ইয়েমেন ও ইরান ঘিরে উত্তেজনার সময় মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েন
এই ঘাঁটিকে ভারত মহাসাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়।
খরচ ও বিতর্ক
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছেন, লিজ চুক্তির জন্য যুক্তরাজ্যের বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় £১০১ মিলিয়ন—যা BBC Verify পর্যালোচনা করেছে। এদিকে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অনেক চাগোসীয় এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাদের দাবি—নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার এতে যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি।
সামনে কী
চুক্তিটি অনুমোদন পেলে আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা কমবে বলে যুক্তরাজ্যের আশা। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে সার্বভৌমত্ব, সামরিক নিরাপত্তা এবং ব্রিটেনের বৈশ্বিক ভূমিকাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
তথ্যসূত্র:
BBC News
The Guardian
Reuters
Associated Press





