ঢাকা | কুইকপোস্ট বাংলা

ঢাকা বুধবার কথা বলেনি।
ঢাকা শুধু নীরবে দেখেছে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সংসদ ভবনের আশপাশ—যেদিকে চোখ যায়, মানুষ আর মানুষ। ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে। কেউ এসেছেন দূর জেলা থেকে, কেউ পাশের এলাকা থেকে। কেউ দলীয় পরিচয়ে, কেউ শুধুই একজন নাগরিক হিসেবে।

এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় জানাজা সমাবেশ।

ভোর থেকেই প্রস্তুতি, দুপুরে জনসমুদ্র
সকাল ৭টার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, আগারগাঁও—সব দিকেই মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। অনেক জায়গায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে। ব্যাগ, ভারী জিনিস বহনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবুও বিশাল এই জনসমাগমে বড় কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

মাইকে কোরআন তিলাওয়াত চলছিল।
মানুষ বসে, দাঁড়িয়ে, নীরবে অপেক্ষা করছিল।

জানাজা: নীরবতার ভেতর আবেগ
দুপুর ৩টা ২ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শুরু হয়। হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে একসঙ্গে ‘আমিন’। অনেকের চোখে তখন অশ্রু।

জানাজায় রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা, কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদল অংশ নেয়, যা ঘটনাটিকে আঞ্চলিক গুরুত্বও দেয়।

এই জানাজা শুধু আনুষ্ঠানিকতা ছিল না।
এটি ছিল একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তির মুহূর্ত।

শেষ ঠিকানা: জিয়া উদ্যানে চিরনিদ্রা
জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁকে ঢাকার জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

দাফনস্থলের আশপাশে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত ছিল। তবে দূর থেকেই অনেকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

দেশজুড়ে শোক
সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
আজ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার বন্ধ ছিল।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয় অনেক জায়গায়।

মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

মানুষ কী বলছে
অনেকেই বলছেন—
তিনি ছিলেন বিতর্কিত।
তিনি ছিলেন সংগ্রামী।
কিন্তু তিনি ছিলেন ইতিহাসের অংশ।

আজ সেই ইতিহাসকে বিদায় জানাতে মানুষ এসেছিল।

রাজনৈতিক বিভাজন সত্ত্বেও এই দিনটি দেখিয়েছে—
কিছু মুহূর্তে বাংলাদেশ এক হয়ে যায়।

ঢাকা আজ সেটাই দেখেছে।