কুইকপোস্ট | ঢাকা | ৪ জানুয়ারি ২০২৬
৩ জানুয়ারি ২০২৬, রাতের শেষ প্রহরে — এক নিঃশব্দ কিন্তু বিস্ফোরক অধ্যায়ের সূচনা হয় ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে। আমেরিকার সামরিক বাহিনী একটি গোপন ও সুচারু অভিযান পরিচালনা করে, যার ফলাফল ছিল অবিশ্বাস্য: ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে চলে যান।
রাতের অভিযান: সামরিক নিখুঁততা ও প্রস্তুতি
সকাল ২:০১টা। কারাকাসের আকাশে মার্কিন বিমান বাহিনীর স্টিলথ জেট গর্জন করে উঠে। অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ নামে পরিচিত এই অভিযানে অংশ নেয় ইউএস স্পেশাল ফোর্সেস, ডেল্টা ফোর্স, সিআইএ এবং নৌবাহিনীর যৌথ ইউনিট। লক্ষ্য—রাষ্ট্রপতির বাসভবন এবং সামরিক প্রতিরক্ষা ঘাঁটি।
বিমান হামলা শুরু হয় প্রথমে রাডার, সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট লক্ষ্য করে। এরপর স্থল অভিযান পরিচালিত হয়। মাত্র ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে, ভোর ৪:২৯ টায় মাদুরো ও ফ্লোরেস মার্কিন হেফাজতে চলে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে “অবৈধ শাসনের অবসান” বলে ঘোষণা করেন এবং বলেন, “ভেনেজুয়েলাকে আমরা পরিচালনা করব, যতক্ষণ না সেখানে গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক রূপান্তর হয়।”
ক্যারাকাস থেকে নিউইয়র্ক: একজন রাষ্ট্রপতির পতন
মাদুরোকে প্রথমে ইউএসএস ইওয়া জিমা বিমানবাহী জাহাজে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর তাকে এবং সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেয়া হয়।
একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় মাদুরো হ্যান্ডকাফ এবং ব্লাইন্ডফোল্ড অবস্থায় এজেন্টদের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন। পরে তাকে একটি ঘরে বসে “Happy New Year” বলতে শোনা যায়, যা অনেকের কাছে অত্যন্ত নাটকীয় ও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, মাদুরো এবং তার স্ত্রী “নার্কো-টেরোরিজম ষড়যন্ত্র” সহ একাধিক মাদক চোরাচালান ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: সমর্থন, নিন্দা ও উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
- ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন” বলে দাবি করেন এবং মাদুরোর জীবিত প্রমাণ চেয়ে বক্তব্য দেন।
- চীন এই অভিযানকে “একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে আগ্রাসন” হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘে প্রতিবাদ জানায়।
- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে এবং ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
ভেনেজুয়েলায় বর্তমান অবস্থা: শূন্যতা ও উত্তেজনা
কারাকাসে কিছু জনগণ আনন্দ উদযাপন করছে মাদুরোর পতনে, আবার কেউ কেউ এটিকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন হিসেবে দেখছে। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, নেতৃত্ব সংকট এবং বাহ্যিক হস্তক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাডো একে “ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের বাঁক বদলের মুহূর্ত” হিসেবে আখ্যায়িত করেন, কিন্তু সংবিধানিক শূন্যতা ও ক্ষমতার লড়াই এখনও উত্তপ্ত।
বড় প্রশ্ন: রাষ্ট্রীয় প্রধানকে অপহরণ কি বৈধ?
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর একটি গভীর প্রভাব ফেলবে।
- কী আইন বা বৈধতা অনুযায়ী একটি সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপতিকে অন্য একটি দেশের সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে যেতে পারে?
- এর পরিণতি বিশ্ব রাজনীতিতে কী হবে?
- এবং যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কতদিন ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে?
বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে — এটা কি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সূচনা, না কি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত?
তথ্যসূত্র:
- Reuters – U.S. captures Venezuelan president Maduro:https://www.reuters.com/world/us/venezuelas-maduro-custody-trump-says-us-will-run-country-2026-01-04/
- Reuters – Inside the U.S. operation to capture Maduro (Operation Absolute Resolve):https://www.reuters.com/business/aerospace-defense/mock-house-cia-source-special-forces-us-operation-capture-maduro-2026-01-03/
- Al Jazeera – Live updates and details on Maduro’s capture:https://www.aljazeera.com/news/liveblog/2026/1/3/live-venezuelas-maduro-arrives-in-new-york-after-capture
- Wikipedia – U.S. case and custody of Nicolás Maduro:https://en.wikipedia.org/wiki/United_States_of_America_v._Nicol%C3%A1s_Maduro
- Wikipedia – 2026 United States strikes in Venezuela (Operation Absolute Resolve):https://en.wikipedia.org/wiki/2026_United_States_strikes_in_Venezuela





