কুইকপোস্ট | ঢাকা | ৮ জানুয়ারি ২০২৬

গত ৭ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি’র ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই নিহত রাজনৈতিক নেতার ওপর দুর্বৃত্ত들의 হামলা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় আঘাত তৈরি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে মুছাব্বির ও আরেকজনকে Star Hotel, কারওয়ান বাজার এলাকায় গুলি করা হয়, যেখানে দুজনকে লক্ষ্য করে দু’জন দুর্বৃত্ত অজ্ঞাতস্থান থেকে সহিংস আচরণে গুলিবর্ষণ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মুছাব্বিরকে দ্রুত BRB হাসপাতাল নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর ব্যক্তি,identified হিসেবে মসুদ রানা, বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

মুছাব্বির ছিলেন বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং তিনি পূর্বে রাজনৈতিক কারণে বহুবার বিচার-বাণিজ্যিক মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০২০ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তেজগাঁও বিভাগে কাউন্সিলর পদে বিএনপি মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ছিলেন। 

মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: “হত্যা অস্থিতিশীলতার কৌশল”

ঘটনার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে। তিনি দুর্বৃত্তদের “সহিংস, নির্মম ও Barbaric” হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এটিকে গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন। 

ফখরুল আরও বলেন, “এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনা পুনরায় ঘটছে যাতে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি দুর্বল হয়।” তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে **গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং হত্যাকারীদের অবলম্বনীয় গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এই হত্যাকাণ্ডের গুরুতর তদন্ত শুরু করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণাদি সংগ্রহ করছে। বসুন্ধরা সিটি শপিং মাল ও তেজতুরী বাজার সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় ঘটনাটি জনবহুল এলাকায় ঘটায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়েছেন। 

একদিকে রাজনৈতিক সহিংসতা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে যাতে ভোটপ্রক্রিয়া ও দেশের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

দ্রুত গ্রেফতার ও ন্যায্য বিচার দাবি

মির্জা ফখরুল এবং বিএনপি অন্যান্য নেতা অভিযোগ করেছেন যে, মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে প্ররোচিত করা হয়েছে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। 

পুলিশ বলেছে, ঘটনার তদন্ত এবং হত্যাকারীদের শনাক্তে সুপারিচার্জড টিম কাজ করছে এবং স্থানীয় কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। 

সূত্র: