কুইকপোস্ট নিউজ | ঢাকা | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার গভীর এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

কারণ একটাই—ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদী আর নেই। বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, তার আগে গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং এখন দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা ও জনরোষ—সব মিলিয়ে জাতি দাঁড়িয়ে আছে অনিশ্চয়তার প্রান্তে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করলেও রাজপথে আগুন জ্বলছে। সবকিছুই ঘটছে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে।


সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে প্রতিবাদ

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের নেতৃত্ব দেওয়া শরীফ হাদী, কয়েক সপ্তাহ আগে গোপন হামলায় গুলিবিদ্ধ হন। তার মৃত্যু ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বড় শহরগুলোতে।

প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা, প্রতিবাদে ওঠে “ন্যায় চাই, জবাব চাই” স্লোগান।

👉 বিস্তারিত পড়ুন: প্রেসে হামলা নিয়ে রিপোর্ট

সর্বত্র মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি ও পুলিশ বাহিনী, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত।


প্রতিবাদে উঁকি দিচ্ছে ভারতবিরোধী স্লোগান

প্রতিবাদে উঠে এসেছে ভারতবিরোধী বক্তব্য। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, এবং প্রতিবাদীদের মন্তব্য নিয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করেছে ভারত সরকার।

🔗 রয়টার্সে পড়ুন


চাপে অন্তর্বর্তী সরকার

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এখন দ্বিমুখী চাপে পড়েছে— একদিকে সহিংসতা থামাতে হবে, অন্যদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি চালাতে হবে।

জনগণের দাবির কেন্দ্রে রয়েছে:

  • সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  • দায়িত্বশীলতা
  • নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ

সব রাজনৈতিক দলের জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল জারি করা হয়েছে নির্বাচনী প্রচার ঘিরে।

🔗 সোময় নিউজ রিপোর্ট


নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাইছেন অনেকে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমীর এক বক্তব্যে বলেছেন, “পুরোনো রাজনীতি থেকে বেরিয়ে নতুন নীতিনির্ধারণে যেতে হবে। দুর্নীতি ও অপরাধবিহীন বাংলাদেশ গড়ার সময় এখন।” এ বক্তব্য দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

🔗 বিস্তারিত: বাসস প্রতিবেদন


নির্বাচন ঘিরে দ্বিধা ও শঙ্কা

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক সংস্কার নিয়ে একটি গণভোট (রেফারেন্ডাম) অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন— “শরীফ হাদীর মৃত্যু কেবল একজন নেতার হার নয়, এটি একটি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।” রাজনীতির এই অস্থির অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সামনে নির্বাচন নয়, সংঘাত অপেক্ষা করছে।