কুইকপোস্ট নিউজ | সিলিকন ভ্যালি | ২২ মার্চ ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল ও অ্যাপল সাম্প্রতিক এক অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের অস্থায়ী ভিসাধারী কর্মীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ—বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের দীর্ঘসূত্রতা এবং কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের ফলে অনেক কর্মী মাসের পর মাস যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে না পারার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সতর্কতা বার্তার মূল কথা কী?
গুগল ও অ্যাপলের জারি করা মেমো অনুযায়ী:
“ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও স্ট্যাম্পিং প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য বিলম্বের কারণে আমরা H-1B, H-4, F, J, ও M ভিসাধারী কর্মীদের অপ্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছি।”
এই উদ্বেগের কারণ কী?
- ভারতসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাসে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সময় লাগছে।
- নতুন নিরাপত্তা নীতিতে আরও কড়া ব্যাকগ্রাউন্ড চেক ও অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চাওয়া হচ্ছে।
- যাদের ভিসা স্ট্যাম্পিং মেয়াদোত্তীর্ণ, তারা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়া পর্যন্ত ফিরে আসতে পারবেন না।
কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন?
এই পরামর্শ মূলত প্রভাব ফেলছে যেসব কর্মীদের উপর:
- H-1B (দক্ষ কর্মী)
- H-4 (নির্ভরশীল স্ত্রী/স্বামী)
- F (ছাত্র)
- J (এক্সচেঞ্জ ভিজিটর)
- M (কারিগরি ছাত্র) ভিসাধারী
অনেকেই বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও ভিসা স্ট্যাম্প না থাকলে ভ্রমণের পর ফিরতে সমস্যায় পড়তে পারেন।
প্রভাব কতটা গভীর?
এ ধরনের ভ্রমণ সতর্কতা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিরল।
এর ফলে বিশ্বব্যাপী মোবিলিটি ও কর্মী ম্যানেজমেন্টে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, গুগলের আইনি টিম কর্মীদের সতর্ক করে বলেছে:
“একবার যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেলে নতুন ভিসা স্ট্যাম্প কবে মিলবে বা আদৌ মিলবে কি না—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
অ্যাপল একই ধরনের বার্তায় কর্মীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছে।
কর্মীদের করণীয় কী?
প্রভাবিত কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:
- যেকোনো ভ্রমণের আগে ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে
- যাদের ভিসা স্ট্যাম্প বৈধ নয়, তারা যেন বিদেশে না যান
- যদি ভ্রমণ করতেই হয়, তাহলে কর্মবিরতির ঝুঁকি মাথায় রাখতে হবে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া এই সমস্যা ২০২৫ সালজুড়েই চলতে পারে।





