কুইকপোস্ট | বিশ্ব | ১০ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গত কয়েক দিন ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও সামাজিক অসন্তোষের মধ্যেই সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও স্বাধিকার দাবি করে সড়কে নেমেছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের উপর কঠোর দমন‑পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে, এবং এতে বহু জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।  

বিক্ষোভ ও মৃত্যুর সংখ্যা

ইরানের বিভিন্ন শহর — যেমন তেহরান, মাশহাদ, ইসফাহান, কাজভিন — সহ দেশের ৩১টি প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে বলা হয়েছে, অন্তত ৩০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছে এবং প্রায় ২,২০০ জনকে আটক করা হয়েছে।  

কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিরীহ মানুষ হতাহত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ইরানের কিছু প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত তিন জন নিহত হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছে — নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবে বিক্ষোভকারীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।  

ইন্টারনেট বন্ধ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

ইরান সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে। এটি বিক্ষোভকারীর যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তথ্যপ্রবাহ কঠিন করে তুলেছে।  

স্বরাষ্ট্রসুরক্ষা ও কঠোর বার্তা

ইরানের সর্বোচ্চ নেত্রীয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের “বিদেশী শক্তির প্রক্সি” হিসেবে অভিহিত করেছে এবং কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সর্বোচ্চ নেত্রী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যারা “রাজ্যবিরোধী” কাজ করছে, তাদের কোন রকম নরম মনোভাব দেখানো হবে না।  

সর্বোচ্চ বিচারকও বলেছেন, বিক্ষোভকে উসকে দেওয়া বা সহায়তা করাকে কোনো আইনি ছাড় ছাড়াই কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।  

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি ইরানি সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে “ভীষণ প্রভাব” বা কঠোর প্রতিক্রিয়া সহ্য করতে হবে ইরানকে।  

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টও একটি কড়া হুঁশিয়ারি জারি করেছে, যা ইরানকে “মার্কিন ধৈর্যের পরীক্ষা না করতে” বলেছেন amid crackdown.  

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় দেশগুলো এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরান সরকারের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং তদন্তের দাবি তুলেছে। ইরান এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং বলেছে, বিক্ষোভকারীরা দেশের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে ও বিতর্কিত “বিদেশী শক্তির” প্রভাব নিচ্ছে।  

পরিস্থিতির মূলে: অর্থনৈতিক নীরবতা থেকে রাজনৈতিক বিস্ফোরণ

বিক্ষোভের শুরু মূলত অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে হলেও তা দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে; বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ও মুক্তি দাবি করেছে।  

Sources: