হবিগঞ্জ | কুইকপোস্ট | ৩ জানুয়ারি ২০২৬

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা–র ভেতরে ঘটে যাওয়া এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এক নেতাকে আটকের পর ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের চাপের মুখে পুলিশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। এর প্রায় ১৫ ঘণ্টা আগে পুলিশ আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসান ওরফে নয়নকে। তাঁর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভকারীরা থানা ঘেরাও করেন, ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন এবং পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাক্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পুরো ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

যে ভিডিও জনমনে আলোড়ন তুলেছে

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন–এর সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেওয়া মাহদী হাসান শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন।

একপর্যায়ে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়—

“আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ‘আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে’—এ কথা বলার সাহস আপনি কোথা থেকে পান?”

এই বক্তব্যে ২০২৪ সালের আগস্টে বানিয়াচং থানা–য় সংঘটিত ভয়াবহ হামলার প্রসঙ্গ উঠে আসে, যেখানে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। প্রকাশ্যে এমন হুমকিমূলক বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কেন আটক করা হয়েছিল এনামুল হাসানকে

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এনামুল হাসানকে আটক করা হয়। অভিযোগ ছিল—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা দাবি করেন, অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এনামুল পরে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন। অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে আটক করা অন্যায়—এই যুক্তিতে তাঁরা তাঁর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।

পুলিশের মধ্যস্থতায় মুক্তি

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিকেল তিনটার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম। আলোচনার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এনামুল হাসানকে তাঁর অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

শনিবার সকালে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনামুলকে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার পর ওসি আবুল কালাম বলেন—

“এখানে পুলিশের কোনো অপরাধ নেই। দেশবাসী সবকিছু দেখেছে। ভিডিও তারাই করেছে, তারাই ছড়িয়েছে। কেউ অপরাধ করলে পরিচয় যাই হোক, তাকে শাস্তি পেতেই হবে।”

তিনি আরও বলেন, রাতে আটক হওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক যাচাই সম্ভব হয়নি। পরদিন তথ্য যাচাই শেষে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বড় প্রশ্ন

এই ঘটনা কয়েকটি গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে—

  • অতীতে পুলিশ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া কি শাস্তির বাইরে থাকবে?
  • আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সিদ্ধান্ত কি এখন রাস্তায় চাপের ওপর নির্ভর করছে?
  • রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে জবাবদিহি যাবে কোথায়?

ভিডিও এখনো অনলাইনে আছে।
বক্তব্যগুলো রেকর্ডে রয়েছে।
আর শীর্ষ পর্যায়ের নীরবতা ক্রমেই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।